দশম শ্রেণীর বাংলা চতুর্থ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন বঙ্গবাণী কবিতার আলোকে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও মূল্যায়ন করা। এ প্রশ্নের আলোকে আমরা আজকের এই আর্টিকেলটি নিয়ে আলোচনা করব। আপনারা যারা দশম শ্রেণীর বাংলা চতুর্থ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর সমাধান নিতে এসেছেন তাদের সকলকে স্বাগতম। বঙ্গবাণী কবিতার আলোকে মাতৃভাষার গুরুত্ব মূল্যায়ন সংক্রান্ত সম্পূর্ণ তথ্য এখান থেকে পেয়ে যাবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক আজকের আর্টিকেল।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে দশম শ্রেণীর এই সপ্তাহের বাংলা পাঠ্য বইয়ের বঙ্গবাণী কবিতার আলোকে মাতৃভাষার গুরুত্ব মূল্যায়ন সংক্রান্ত একটি অ্যাসাইনমেন্ট করতে দিয়েছেন।

অ্যাসাইনমেন্ট লেখার দিকনির্দেশনা হিসেবে বলেছেন কবি আবদুল হাকিমের মাতৃভাষায় গ্রন্থ রচনায় কারণ। এ মাতৃভাষায় বিদেশিদের প্রতি কোভিদ মনোভাব প্রকাশ করতে হবে। সাধারণ কথোপকথন বইপত্র সাইন ব্যানার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভাষার অপপ্রয়োগ এর বিভিন্ন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন প্রয়োজনীয় পেপার কাটিং যুক্ত করা যেতে পারে। এবং সর্বশেষ মাতৃ ভাষার অপপ্রয়োগ কমাতে এবং যথাযথ প্রয়োগ ভারতে একই ধরনের ভূমিকা রাখা যায় এ ধরনের একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

বঙ্গবাণী কবিতায় মূলভাব হচ্ছে মাতৃভাষা বাংলার প্রতি কবি আবদুল হাকিমের গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করা। এ কবিতায় ভাবগুলো হচ্ছে অন্যান্য ভাষার প্রতি উদার মনোভাব। গভীর ধর্মতত্ত্ব ও স্রষ্টা সর্বজ্ঞ মাতৃভাষা সম্পূর্ণরূপে বোধগম্য মাতৃভাষার প্রতি অনুরাগহীনদের দেশ ত্যাগের পরামর্শ। এবং সবশেষে মাতৃভাষার প্রতি অবজ্ঞা কারীদের জন্ম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ।

বঙ্গবাণী কবিতার আলোকে মাতৃভাষার গুরুত্ব মূল্যায়ন:

বঙ্গবাণী কবিতায় বাসার যোগাযোগের এমন একটি ব্যবস্থা যা একগুচ্ছ শব্দ এবং লিখিত পত্রিকার মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের লোকেরা কথা বলতে পারলে খাঁর জন্য ব্যবহার করে থাকেন। কোভিদ মতে মাতৃভাষা আসলে সেই ভাষাতেই যেখানে কোনো শিশু কোন শব্দ বুঝতে শুরু করার আগে তার সঙ্গে কথা বলে এবং এটি এমন একটি প্রভাবশালী ভাষা যা প্রকৃতপক্ষে একজন ব্যক্তির চিন্তা ধারাকে সংজ্ঞায়িত করে থাকে।

কবি আবদুল হাকিমের বঙ্গবাণী কবিতাটি নূরনামা কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে এবং এতে মধ্যযুগীয় পরিবেশে বঙ্গভাষী ও বঙ্গভাষার প্রতি এমন বলিষ্ঠ বাণিজ্য কবিতার নিদর্শন দুর্লভ।

কবি বঙ্গবাণী কবিতায় তার গভীর উপলব্ধি ও বিশ্বাসের কথা নির্দ্বিধায় ব্যক্ত করেছেন। আরবি ফারসি ভাষার প্রতি কোভিদ মোটেই বিদ্বেষ নেই এসব ভাষায় আল্লাহ ও মহানবীর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সালাম এর সৃষ্টি হয়েছে তাই এসব ভাষার প্রতি সবাই বরং শ্রদ্ধাশীল। যে বাসায় জনসাধারণের বোধগম্য নয় সে বাসা অন্যের সঙ্গে ভাব বিনিময় করা যায়না কোভিদ মতে সেসব ভাষাভাষী লোকেরা পক্ষের মাতৃভাষায় কথা বলা লেখা একমাত্র পন্থা একারণেই কবি মাতৃভাষায় গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেছেন।

তখনকার সময়ে এ দেশের রাষ্ট্রভাষা ছিল ফার্সি ধর্মীয় কুসংস্কারচ্ছন্ন কিছু রক্ষণশীল গোটা ব্যক্তিবর্গ তাদের মাতৃভাষা বাংলা কে বাদ দিয়ে আরবি-ফারসির প্রতি গভীর অনুরাগ জায়গাতে থাকেন।

তাছাড়া এ দেশের প্রাচীন অধিবাসী ছিল হিন্দু এবং তাদের ভাষা ছিল বাংলা বাংলা বর্ণমালা গুলো এসেছে ব্রাহ্ম লিপি থেকে যা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের তৈরি করা। তাই মুসলমান হয়ে ভাষাকে ভালোবাসার সম্ভব নয় এ কারণে তারা বাংলাভাষাকে অবজ্ঞা করে হিন্দুর অক্ষর বলতো।

বঙ্গবাণী কবিতার আলোকে মাতৃভাষার গুরুত্ব মূল্যায়ন:

বঙ্গবাণী কবিতাটি লেখক কবি আব্দুল হাকিম এখানে বঙ্গবাণী শব্দের অর্থ বলতে বাংলা ভাষাকে বুঝাতে চেয়েছেন। কোভিদ ধর্ম সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অভাব আছে এমন ব্যক্তি অর্থাৎ মারফতি জ্ঞানহীন কিছু ব্যক্তি তৎকালীন সময়ে আরবি-ফারসি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা মনে করত। কারণ তাদের ধ্যান-ধারণা এ বাসায় আল্লাহ নবীর গুণকীর্তন করা হয়েছে অর্থাৎ আল-কোরআন আল-হাদিস আরবিতে রচিত হয়েছে।

তাই তারা অন্যান্য ভাষাকে অপেক্ষা করতো কিন্তু ও ভাষা প্রসঙ্গে কবি আবদুল হাকিমের বক্তব্য পৃথিবীর সব ভাষায় সমান এবং সব ভাষা বাসীদের কাছেই তার নিজস্ব মাতৃভাষা শ্রেষ্ঠ।

কারণ দেশী ভাষে বুঝিতে ললাটে পুরে ভাগ অর্থাৎ মাতৃভাষা সম্পূর্ণরূপে বোধগম্য বা মাতৃভাষার মাধ্যমে মনের ভাব সর্বতোভাবে প্রকাশ করা সম্ভব।

কবি সখেদে এর মতে যেসব লোক যাদের মনে স্বদেশ ও ভাষার প্রতি বিন্দুমাত্র অনুরাগ নেই তারা কেন এদেশের পরিত্যাগ করে অন্য দেশে চলে যায় না।

মহান ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক ধারণা থেকে আমরা বলতে পারি যে হাজার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মাতৃভাষা বাংলা অবাধ বাংলার ও তার সার্বিক উৎকর্ষ বিধানের এবং সর্বস্তরে চর্চার অধিকার আদায় করা। এবং আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালতসহ রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানে এর যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

জাতীয় স্বাতন্ত্র্য ও সক্রিয়তা বজায় রাখা ও সারা বিশ্বে এ ভাষার প্রতি পরিচিত আরো উন্নত পরিসরে সরিয়ে দেওয়া সে জন্যই আমাদের ভাষা আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।

বঙ্গবাণী কবিতার আলোকে মাতৃভাষার গুরুত্ব মূল্যায়ন:

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম ছিলেন আরবের সবচেয়ে সুন্দর ও শুদ্ধ ভাষায় মানুষ। ইতিহাসের আলোকে আমরা দেখতে পাই আরবের অধিবাসিদের নীতি বিধান ও জীবনবোধ এবং সামগ্রিক আদর পদ্ধতিতে সহজে বোঝানোর জন্য আরবি ভাষাতে কোরআন নাজিল হয়েছিল। আর তা আল্লাহপাকের এক বাণীতে অপরিষ্কার অনুধাবন করা যায় আমি আরবে গিয়ে ভাষায় কোরআন রূপে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা সহজে বুঝতে পারো।

মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনা আলোকে আমরা আমাদের উচিত সর্বস্তরের মানুষ মাতৃভাষা বাংলার যথার্থ প্রচলন এবং বাংলা ভাষার উপরোক্ত সমৃদ্ধ আনয়ন করা। বাংলা ভাষার কবি লেখক গায়ক গবেষক সাংবাদিক প্রতিবেদক সহ সংশ্লিষ্ট সবার উচিত তাদের রচনায় আমাদের শিশু-কিশোরসহ অর্ধ শিক্ষিত মানুষের সহজে বোধগম্য হয় এমন শব্দাবলী ব্যবহার করা। ধর্মীয় নৈতিক ও শিল্প-সাহিত্যের সম্বন্ধীয় সব রচনা মানুষের মাতৃভাষা রূপান্তরিত হওয়া প্রয়োজন যাতে ইসলামকে বুঝতে সহজ বিজ্ঞানে মানুষ গুণান্বিত হয় এবং বিদেশি রচনাবলীর বাংলায় অবলম্বন করতে সক্ষম হয়।

আব্দুল হাকিম দেশি ভাষা ও বাংলা ভাষার কাব্য রক্ষা করতে চান অধিকাংশ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা ছাড়া অন্য ভাষা জানিনা আরবি-ফারসি ইসলাম ধর্ম আল্লাহর নবীর কথা লেখা আছে কিন্তু সেগুলো পড়তে পারেন না অধিকাংশ মানুষ তাই সে সকল মানুষের কথা চিন্তা করে বাংলা চর্চা করা এবং অন্যান্য সকল ভাষায় একটি চর্ক্রাকার করা। তাই মানুষ এসকল কথা যদি বাংলা চর্চা করা যায় তবে অন্যথায় হয়না সকল ভাষা।

সর্বশেষ আমরা এটা বলতে পারি যে, আমরা আমাদের মাতৃভাষাকে অনেক বেশি ভালবাসি এবং শ্রদ্ধাও করব এবং যাতে বাঁচাতে জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা করব।

Leave a Reply

%d bloggers like this: